শুক্রবার , জুন ১৮ ২০২১
Home / অপরাধ / ঢাকায় বাসা মালিককে মারধর, লুট করে উধাও ঠাকুরগাঁওয়ের রেখা !

ঢাকায় বাসা মালিককে মারধর, লুট করে উধাও ঠাকুরগাঁওয়ের রেখা !

 

মোঃ ফরিদ হোসাইন মাসুম সংবাদ চ্যানেল ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ

রাজধানীর মালিবাগে একটি বাসা মালিকের সত্তর বয়সী মা বিলকিস বেগমকে উলঙ্গ করে বেধরক মারপিট করে বাড়ীর স্বর্ণালংকারসহ টাকা লুটপাট করেছে বালিয়াডাঙ্গীর রেখা (২৮) নামে এক মেয়ে। এমন মর্মাত্মিক ঘটনার একটি সিসি টিভি ক্যামেররা ফুটেজ প্রকাশ হয়েছে।
নির্মম, ভয়াবহ পাশবিকতা। যে গৃহকর্মীর দায়িত্বে বৃদ্ধা মা’কে রেখে সন্তানরা জীবিকার প্রয়োজনে বাইরে, তার কারণেই এখন জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে সেই মা। রাজধানীর মালিবাগে ফাঁকা বাসায় গৃহকর্মীর হাতে, নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সত্তরোর্ধ্ব বিলকিস বেগম। পরে নগদ টাকা, স্বর্ণসহ সটকে পড়ে ওই গৃহকর্মী।
অভিযোগ উঠা রেখা আকতার ওই গৃহকর্মীর বাড়ী ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নের বড়পলাশবাড়ী গ্রামের।
সোমবার সকাল সোয়া দশটা। বছর তিনকে ধরে কিডনীসহ নানা সমস্যায় ভোগা বিলকিস বেগম শুয়ে আছেন বিছানায়। পরম যত্নে তার সেবা করছেন রেখা নামের গৃহকর্মী। প্রথম দেখায় যে কেউ দেখবেন, এমন চোখেই। কিন্তু না, পরম মমতার পেছনে যে কত ভয়ংকর পরিকল্পনা লুকিয়ে ছিলো তা ভাবলে শিউরে উঠবে যে কেউ।
জোর করে বিলকিস বেগমকে বাথরুমে ঢোকায় রেখা। এরই মাঝে খুলে ফেলে তার শরীরের সব কাপড়। শীতের সকালে বৃদ্ধার গায়ে ইচ্ছেমতো ঢালা হয় ঠাণ্ডা পানি। কিন্তু ভেতরে গৃহকত্রীকে আটকাতে না পেরে বেরিয়ে আসে রেখার আসল চেহারা।

যে লাঠি বৃদ্ধ বয়সে ছিলো ভরসা, তা দিয়েই শুরু। মার খেয়ে ফ্লোরে পড়ে গেলেও ক্ষান্ত হননি একের পর এক আঘাত করা হয় মাথায়।
একপর্যায়ে হাতের কাছে যা পেয়েছে তা দিয়েই চালিয়েছে নির্যাতন। আলমারির চাবির জন্য বুকে উপর চেপে বসে। বটি হাতেও তেড়ে আসেন রেখা। এসব কিছুর মাঝে তার লক্ষ্য আলমারি। একসময় অসহায়ের মতো আত্মসমর্পণ করেন বিলকিস বেগম। গলা থেকে চেইন খুলে পরে নেয় আয়েশি ভঙ্গিতে পরখ করে নেন হাতের বালা।
তারপর চাবির সন্ধান পায় নিষ্ঠুর এই গৃহকর্মী। কিন্তু খুলতে না পেরে রক্তাক্ত, অসুস্থ বৃদ্ধাকে টেনে নিয়ে বাধ্য করেন আলমারি খুলে দিতে। ড্রয়ার খুলে স্বর্ণ, নগদ টাকা, মোবাইল সবই হস্তগত করে রেখা।
পুরোটা সময় বিবস্ত্র বৃদ্ধা, নিজের হাতেই রক্ত থামাতে মাথায় বাঁধেন কাপড়। সব হাতানোর পর কক্ষে তালা দেয় রেখা। তারপর খুলে আনে টিভি। জোগাড় করে ব্যাগ। সবকিছু গুছিয়ে ফাকা বাসায় আহত বৃদ্ধাকে ফেলে বেরিয়ে যায় ভয়ংকর গৃহকর্মী।
মালিবাগের এই বাসাটি বেশপুরনো। স্বামী মৃত্যুর পর দুই ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে দুজনকে নিয়ে এতোদিন নিরাপদেই বসবাস করে আসছিলেন বিলকিস বেগম।

ব্যবসায়ীক কাজে বাসা ফাঁকা রেখে ঢাকার বাইরে যাওয়াকে দুষছেন মেয়ে মেহবুবা। মাকে হাসপাতালে ভর্তির পর মঙ্গলবার পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান।

শাহজাহানপুর থানা পুলিশ বলছে, গৃহকর্মীদের নামে ছদ্মবেশে পেশাদার অপরাধীরা ঢুকে যাচ্ছে মানুষের বাসাবাড়িতে।
বৃহস্পতিবার সর্বশেষ জানা গেছে, গৃহকত্রীকে নির্মম নির্যাতন করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালানো গৃহকর্মী রেখা বারবার নিজের অবস্থান পাল্টাচ্ছে। ঘটনার পর মালিবাগেই অবস্থান করে সে। তারপর যায় ডেমরায়। দেশের একটি টেলিভিশনে খবর প্রচারের পর রেখার গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়পলাশবাড়ী গ্রামের লোকজন বলছেন, তাকে পাওয়া মাত্রই পুলিশে দেবেন।
মালিবাগে পিডিবির সাবেক প্রকৌশলী হাজী আব্দুল লতিফ ১৯৮৬ সালে তৈরি করেন বাড়ি। ৯০ সালে পুরো পরিবার নিয়ে খিলগাঁও থেকে চলে আসেন মালিবাগে। তিনি মারা যাবার আগেই বাড়ির ফাঁকা জায়গায় ছোট ছোট ঘর করে ভাড়া দিয়েছিলেন। সেখানেই একটি ঘরে গত বছর শুরুতে স্বামীসহ ভাড়া ওঠে রেখা।
এরপর প্রায় ১ বছর বিলকিস বেগমের মেঝ মেয়ে মেহবুবা জাহান বুলবুলির বাসায় কাজ করে রেখা। গেল ৭ জানুয়ারি ছেড়ে দেয় কাজ, চলে যায় অন্যখানে। ১৬ জানুয়ারি সার্বক্ষণিক থাকার কথা বলে ফিরে আসেন এ বাসায়। এর দুদিন পর বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে গৃহকত্রী বিলকিস বেগমকে নির্মম নির্যাতন করে নগদ টাকা, স্বর্ণসহ টিভি ও মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায় সে।

এ ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রচারের পর আলোচনা শুরু হয় সর্বত্র। মাঠে নামে আইনশৃংখলা রক্ষাবাহিনী। জানা যায়, ঘটনার পর ডেমরায় যায় রেখা। তারপর উত্তরাঞ্চলের ঠাকুরগায়ে নিজ গ্রামের দিকে রওনা দিয়েছে সে। স্থানীয়রা জানাস, রেখার বাবা আফা হোসেন ঋণের দায়ে ৪/৫ বছর আগে পরিবারসহ ঢাকায় পাড়ি জমায়। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তারা বলছেন, দেখামাত্রই পুলিশে দেয়া হবে এই ভয়ংকর গৃহকর্মীকে।
জীবনের শেষ বয়সে যিনি শিকার হলেন নৃশংস নির্যাতনের। সেই বিলকিস বেগম এখনো চিকিৎসাধীন রাজধানীর একটি হাসপাতালে। মাথায় অস্ত্রোপচারের পর কেবিনে আনা হয়েছে তাকে। শঙ্কামুক্ত না হলেও আগের চেয়ে এখন অনেকটাই উন্নতি হয়েছে তার অবস্থা।
গৃহকর্মী রেখার প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, তার তিনটি বিয়ে। সর্বশেষ স্বামীর নাম সুমন। তার বাবার নাম আফা হোসেন (হাবা)। গেল কয়েকবছর তারা স্বপরিবারে ঢাকাতেই অবস্থান করছেন। কিছুদিন আগে রেখা বাড়ী এসেছিলো, তার স্বভাব দেখে মনে হচ্ছিল বড় কোন অফিসার সে।
বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জানান, আমি মেয়েটিকে চিনিনা। খবরটা দেখেছি টেলিভিশনে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে খোজ খবর নেয়া হচ্ছে।

About songbadchannel

Check Also

কুড়িগ্রাম ধরলা ব্রিজের নিচ থেকে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার

শেখফরিদ সংবাদ চ্যানেল কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ কুড়িগ্রামে ধরলা ব্রীজের নিচ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.