রবিবার , জুন ২০ ২০২১
Home / প্রচ্ছদ / আমরা কি সাংবাদিকের পরিবারের কথা ভাবি? : লেখক মনিবুল হক বসুনিয়া

আমরা কি সাংবাদিকের পরিবারের কথা ভাবি? : লেখক মনিবুল হক বসুনিয়া

 ( লেখক মনিবুল হক বসুনিয়া )

সহকারী শিক্ষক প্রাথমিক বিদ্যালয় , রাজারহাট, কুড়িগ্রাম ।


আমি জানিনা দুর্যোগ বা মহামারীর সময়ে সাংবাদিকদের কোনধরণের ঝুঁকিভাতা দেয়া হয় কিনা।

যদি এরকম কোন নিয়ম/আইন না থেকে থাকে তাহলে সেটা অবশ্যই করা উচিত।
বিশেষকরে করোনাভাইরাসের মহামারীর এই দুঃসময়ে যাঁরা নিজের জীবন বাজিরেখে সংবাদ, তথ্য, উপাত্ত দিয়ে আমাদের সামনে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরছেন….
যাঁদের মাধ্যমে আমরা ঘরে বসে লকডাউনের এই উদ্বিগ্ন, আতংকিত সময়ে খবর পাচ্ছি…..
যাঁরা নিজের জীবন বিপন্ন করে, পরিবারের মায়া ত্যাগ করে সংবাদ সংগ্রহ, পরিবেশন করছেন তাঁদের কথা কী সত্যিই আমরা ভাবি কখনো?
আমরা কী তাঁদের পরিবারের কথা ভাবি?
কতোটা উদ্বিগ্নতা, শংকা, ভয়, অনিশ্চয়তা নিয়ে আছেন আমাদের সাংবাদিক ভাই-বোনদের পরিবারগুলো, সেটা ভেবে দেখেছি আমরা?
২.
যেখানে করোনা আক্রান্তের খবর শুনলে এমনকি কিছু ডাঃ ভাই-বোন পালিয়ে যান, যেখানে করোনাভাইরাস পরীক্ষাগার স্থাপন করায় মেডিকেল প্রধান স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন করেন জীবনের নিরাপত্তার জন্য, মরণের ভয়ে…
…..সেখানে আমাদের সাংবাদিক ভাই-বোনেরা জীবনকে তুচ্ছ করে, প্রকৃত সত্য তুলে নিয়ে আসতে প্রতিনিয়ত হাসপাতাল, ক্লিনিক, আক্রান্ত এলাকা এমনকি পারলে তাঁরা আক্রান্তেরও সাক্ষাতকার নিতে চান!
একবার ভাবুন, আজ যদি সাংবাদিক ভাই-বোনেরা আপনার-আমার মতো জীবনের মায়া করে, নিজের, পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে ঘরের বাইরে যাওয়া বন্ধ করেন, আমরা কিভাবে সংবাদ পাব?
কিভাবে সচেতন হব?
কিভাবে সতর্ক হব?
কিভাবে প্রশাসন সংবাদের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিবে?
এই সাংবাদিক ভাই-বোনেরা না থাকলে এমনকি ত্রাণের টাকা-দ্রব্য যতটুকুও বিতারণ হয় সেটাও কী হবে?
৩.
সাংবাদিক ভাই-বোনেরাই আমাদের খবর দেয়, অমুক মেম্বারের বাড়িতে, অমুক চেয়ারপম্যানের বাড়িতে এত বস্তা ত্রাণের চাল আছে।
এঁরা না থাকলেতো পুরো গোডাউন তারা বাড়িতে নিয়ে যেতো, তাইনা?
সাংবাদিক ভাই-বোনেরা কী শুধু টাকার জন্যই ঝুঁকি নিয়ে মানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই মহামারীর সময় কাজ করছেন?
না।
না।
না।
কোন সাংবাদিকের পরিবার মানে বাবা/মা কী বলেননি,
“তোকে কাজে যেতে হবেনা। চাকরী গেলে যাবে, আগে জীবন, ঘরে থাক”।
অথবা, তাঁর প্রেয়সী/প্রিয়/প্রিয়া.. খুব আবেগ নিয়ে ছলছল চোখে ধরা গলায় বলেনি,
“ওগো, চাকরীটা ছেড়ে দাও।
আমরা কষ্ট করে চলবো, না খেয়ে থাকব.. তবু তোমাকে হারাতে চাইনা..!
অথবা, কারো কী ৯ ক্লাস পড়ুয়া মুহিতার মতো বয়সী একজন মেয়ে যে সারাক্ষণ টিভিতে খবর শুনে উদ্বিগ্ন, আতংকিত…
সে কী গলা জড়িয়ে ধরে গলায় প্রচণ্ড আবেগ আর চোখে জল ঝরিয়ে বলছেনা,
“বাবা ও বাবা.., আমি না খেয়ে থাকব, তবুও এই সময়ে বাইরে যেওনা, বাবা.. প্লিজ যেওনা মা…..”
তবুও কী তাঁরা যাচ্ছেন না?
এটা কী শুধু জীবিকার তাগিদেই?
আমি বিশ্বাস করিনা।
সাংবাদিক মানেই শিক্ষিত, স্মার্ট, এবং সচেতন ব্যক্তি।
শুধুই জীবিকার প্রয়োজনে তাঁরা জীবনের জন্য ঝুঁকি নিবেন, এটা আমার বিশ্বাস হয় না।
তাঁরা ঝুঁকি নেন, দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধা থেকে।
তাঁরা ঝুঁকি নেন, দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে।
তাঁরা ঝুঁকি নেন, দেশের মানুষকে সচেতন রাখতে।
তাঁরা ঝুঁকি নেন মানুষকে ভালোবেসে, মানবিকতা থেকে।
তাঁরা ঝুঁকি নেন কারণ, মায়া থেকে…
৪.
মানবিকতায়ভরা, প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পথচলা সাংবাদিক ভাইবোনেরা কাজের একটু অবসরে,
“যদি আমার কিছু হয়ে যায়… কী হবে পরিবারের?
আব্বার অসুধ কে কিনে দিবে?
আমার সন্তান কী খেয়ে বাঁচবে?
রুহিতা সন্তানদের লালন-পালন করবেই বা কী করে?
… বাসাভাড়া দিতে না পরলে বাড়িওয়ালা ওদের নামিয়ে দিবে, গাছতলা ছাড়া যাবে কোথায় ওরা?
সো এন্ড সো…”
এগুলো ভেবে কী সবার থেকে নিজের বাষ্পায়ীত চোখ লুকান না?
তাই আমি মনেকরি, রাষ্ট্রের উচিত সাংবাদিক ভাইবোনদের জন্য সম্মানজনক ঝুঁকিভাতা ঘোষণা করা।
পাশাপাশি, মহামারীর সংবাদ সংগ্রহের কারণে যদি কারো অকাল মৃত্যু বা বড় কোন ক্ষতি হয় তাঁর/তাঁদের পরিবারের সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করা।
আর এটা দয়া বা করুণা নয়, এটা তাঁদের অধিকার।।

About songbadchannel

Check Also

কুড়িগ্রাম ধরলা ব্রিজের নিচ থেকে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার

শেখফরিদ সংবাদ চ্যানেল কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ কুড়িগ্রামে ধরলা ব্রীজের নিচ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.