রবিবার , জুন ২০ ২০২১
Home / গ্রাম বাংলা / শিক্ষক মনিবুল হকের সমকালীন লেখাটি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নজর জরুরী

শিক্ষক মনিবুল হকের সমকালীন লেখাটি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নজর জরুরী

আইয়ুব আলী আনছারী.সংবাদ চ্যানেল প্রতিনিধি


 চলমান কোভিড ১৯ পরিস্থিতিতে গরীব অসহায় শিক্ষার্থীদের খাদ্য সংকটের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ লেখা নিজের ফেসবুক পেজে তুলে ধরেছেন কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনিমুল হক বসুনিয়া। লেখাটি  হুবহু তুলে ধরা হলো=

১.
তিনবছর আগে আমাদের পঞ্চম শ্রেণির একছাত্রী ১৫ আগষ্টে সমাবেশের লাইন থেকে মাঠে পড়ে অজ্ঞান হয়েছিল।

খোঁজ নিয়ে দেখা গিয়েছিল, সে রোজ না খেয়ে স্কুলে আসে।
স্কুল থেকে দেয়া জিওবি এর বিস্কুটই তার একইসাথে সকালের নাস্তা এবং দুপুরের খাবার হিসেবে কাজ করে।

যেহেতু ১৫ আগষ্ট বিস্কুট দেয়া হয়নি তাই, সে ক্ষুধায় অস্থির হয়ে শরীরের ভারসাম্য রাখতে না পেরে মাঠে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল।

এটাই আমাদের কিছুকিছু শিক্ষার্থীর বাস্তবতা, আপনি মানতে না চাইলেও।

২.
সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ আছে ১৭মার্চ থেকে।
দেশের ১০৩টি উপজেলায় জিওবি এর স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালু আছে।

যেহেতু মাসের প্রথমেই প্রতিটি স্কুলে চাহিদামত বিস্কুট পৌঁছে দেয়া হয়, সেহেতু ১৭মার্চের পর থেকে ৩১মার্চের বিস্কুট স্কুলে মজুদ আছে।

মার্চ মাসের কার্যদিবস ছিল ২২ দিন।
১৩ কার্যদিবস হয়েছে ১৬ তারিখ পর্যন্ত।
অর্থাৎ, ৯কার্যদিবসের বিস্কুট জমা আছে বিদ্যালয়গুলোতে।

৩.
ভৌত অবকাঠামোগত, আবহাওয়া ইত্যাদি কারণে পাশাপাশি ইঁদুর বা এজাতীয় প্রাণীর দ্বারা বিস্কুট নষ্ট হওয়ার কিছুটা সম্ভাবনা থাকেই।
তাছাড়া দীর্ঘসময় যেহেতু বিস্কুটগুলোর উপর নজরদারী রাখা যাচ্ছেনা, সেহেতু সেগুলো নষ্ট হলেও হতে পারে।

আর যদি নষ্ট নাও হয়, সেগুলোর ব্যবহার স্কুল খোলার আগে হচ্ছেনা এবং আমরা নিশ্চিত নই ঠিক কবে খোলা হবে।

১০৩টি উপজেলায় এই কার্যক্রম চালু আছে।
যদি গড়ে ১০,০০০ স্টুডেন্টস থাকে প্রতি উপজেলায় সেক্ষেত্রে ১০৩*১০,০০০*৯= প্যাকেট বিস্কুট।

৪.
যে উপজেলাগুলোতে এই ফিডিং কার্যক্রম আছে নিশ্চয়ই সে উপজেলাগুলোতে এগুলো দেয়ার যৌক্তিক কারণও আছে।

বর্তমানে সারাদেশে অঘোষিত লক ডাউন চলছে।
প্রান্তিক আয়ের মানুষদের জন্য এখন ক্রান্তিকাল।
বাইরে বের হলে মরার ভয় করোনায় বা কপালে মাইর, আর ঘরে থাকলে ক্ষুধার জ্বালা।

এই চরম খারাপসময়ে এক প্যাকেট বিস্কুটও হতে পারে তাঁদের জীবন যাপনের একটু অবলম্বন।
দুটো বিস্কুট আর ২গ্লাস পানি খেয়েও ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে পারবে কিছু পরিবার।

বলা হয়ে থাকে এই বিস্কুটগুলো উচ্চ প্রোটিন সম্পন্ন পাশাপাশি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

সেহেতু সার্বিক বিবেচনায় এই মজুদ থাকা বিস্কুটগুলো প্রতিটি স্কুলের ক্যাচমেন্ট এলাকায় নিড বেইস পরিবারভিত্তিক বা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

দরিদ্রতার তালিকা করে দিতে চাইলে প্রশাসনকে দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে।
আর শিক্ষার্থীদের দিতে চাইলে শিক্ষকদের দ্বারাও সম্ভব।

এটা করতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সার্বিক সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করে একটা নির্দেশনা দিতে পারে।

যারা ভরপেট খেয়ে তৃপ্তিকর ঢেঁকুর তুলে ফেসবুক চালাচ্ছি, তাদের কাছে এই আবেদন গুরুত্বহীন মনে হলেও…

যারা এই দুঃসময়ে বউ-বাচ্চা নিয়ে খেয়ে না খেয়ে ঘরে বন্দি হয়ে আছেন, তাঁদের জন্য জীবন ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ।

 

About songbadchannel

Check Also

কুড়িগ্রাম ধরলা ব্রিজের নিচ থেকে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার

শেখফরিদ সংবাদ চ্যানেল কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ কুড়িগ্রামে ধরলা ব্রীজের নিচ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.