রবিবার , জুন ২০ ২০২১
Home / অপরাধ / সাংবাদিক মরিয়ম অপহরণের মামলা নিতে ওসির তালবাহনা

সাংবাদিক মরিয়ম অপহরণের মামলা নিতে ওসির তালবাহনা

সংবাদ চ‍্যানেল ডেস্ক


একটা যুবক জোরপূর্বক সাংবাদিক মরিয়ম খানমের সাথে সম্পর্ক করতে চাচ্ছিলেন।  সেই সম্পর্কে রাজি না হওয়াতে মরিয়ম খানমকে ব্লাকমেইল করতে তার নামে একাধিক ফেইসবুক ফেইক আইডি দিয়ে  ফটো কাটছিট করে মরিয়ম খানমের নামে বদনাম রটানো শুরু করে। এঘটনায় মরিয়ম খানম ১১ই নভেম্বরে   লোহাগাড়া থানায় একটি জিডি দায়ের করতে  থানার গিয়ে  ওসি সাইফুল ইসলামকে না পেয়ে ফোন দিলে ওসি সাইফুল বলেন থানায় নেই বাহিরে আছি। তার প্রায় ঘন্টা খানেক পরে মরিয়ম খানম ওসি সাইফুলকে থানা থেকে বেড়িয়ে পুলিশের গাড়িতে উঠে যেতে দেখলে মরিয়ম ওসিকে সমস্যার কথা জানিয়ে জিডি নিতে বলেন। ওসি জিডি না নিয়ে উল্টো মরিয়ম খানমকে বলেন  দুই দিন পর সব সমস্যা নিয়ে আসেন । এ কথা বলে সাংবাদিক মরিয়ম খানমের জিডি না নিয়ে ওসি তার কাজে গাড়িতে করে চলে যায়।

১২ই নভেম্বরে ওসিকে সংবাদ টিভির চেয়ারম্যান ফোন দিয়ে জিডি নিতে বলেন পরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার থানার কিছু সাংবাদিককে দিয়ে  জিডি করান। তার ২/৩ দিন পরে মরিয়মকে উত্ত্যক্তকারীদের ৩ জনের ফটো ও তাদের ফেইসবুক আইডি সহ ৭টি ফোন নাম্বার ওসির কাছে পাঠানো হয়। ওসি সাইফুল সেই রিপোর্ট গুলি নিয়ে ব্যক্তিকে ধরার আশ্বাস প্রধান করেন।

সেই জিডির তদন্তের ভার দেন এএসআই অজয়কে, অজয়  প্রায় ১৫ দিন তালবাহানা করে  সে এই জিডির ভার দিয়ে যান চন্দন সাহাকে। সেও কিছু দিন তালবাহনা করে আবার এই জিডি এএসআই বেলালকে হস্থান্তর করেন। পরে এএসআই বেলালকে সংবাদ টিভির অফিস থেকে ফোন দিলে প্রথমে দেখছি বলেন পরে কল রিসিভ করেন না। এরেই মাঝে আবার ওসি সাইফুল বদলি হয়ে যায় অন্য থানায় । দায়ীত্ব দিয়ে যায় ওসি জাকিরকে । সেও একি অবস্থা। পরে জনায়ায় সাংবাদিক মরিয়ম খানমের চাচাতো বোন তার প্রেমিককে দিয়ে এই কাজ গুলি করিয়েছিলেন।

পরে এলাকায় বিচার সালিশের মাধ্যমে  মরিয়ম খানমের চাচাদেরকে এলাকা ছাড়া করতে চাইছিলেন এলাকা বাসী। পরে মরিয়মসহ তার বাবা তাদেরকে ক্ষমা করে দেন। সেই ক্ষমাটাই যেন ছিল মরিয়মের জীবনে বড় কাল।

সাংবাদিক মরিয়ম খানম গত ২৭শে ডিসেম্বরের আনুমানিক দুপুর ১২ টার দিকে তার পার্ট টাইম জব কিন্টারগার্ডেন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে একদল অপহরণ কারীরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

এই ব্যাপারে সংবাদ টিভির চেয়ারম্যানকে সাংবাদিক মরিয়ম খানমের বাবা ফোনে জানালে তিনি লোহাগাড়া থানায় গিয়ে মামলা করতে বলেন। মরিয়মের বাবা মামলা করতে গেলে  ওসি জাকির হোসেন মাহমুদ মামলা না নিয়ে জিডি নেন ।সাংবাদিক মরিয়ম খানমের বাবাকে বলে আজ শুক্রবার কোন প্রকারের কল ট্যাগ করে বাহির করা যাবেনা সেই সুবাদে আগামীকাল শনিবার ছাড়া কিছু করা যাচ্ছেনা।

এই কথা মরিয়মের বাবা সংবাদ টিভির চেয়ারম্যানকে জানালে সংবাদ টিভির চেয়ারম্যান ওসি জাকির হোসেন মাহমুদকে কল দিলে একি কথা বলেষ। পরে সংবাদ টিভির চেয়ারম্যান জুয়েল খান্দকার ওসিকে বলেন যে মরিয়মের ফোন খোলা আর প্রত্যেক থানায় ফোন লোকেশন ট্যাগ করার জিপিএস থাকে তাহলে আপনাদের কেন নেই।  এই কথা বলাতে এক পর্যায়ে ওসি জাকির সংবাদ টিভির চেয়ারম্যান এর উপরে চড়াও হয়ে যায় দু”জনের মাঝে এক প্রকার বাকবিতণ্ডা হয়। টিভির চেয়ারম্যান বলেছিলেন যে আজকে যদি আপনার মেয়ে অপহরণ হতো তাহলে আপনি কি করতেন এর আগে আপনাকে থাকায় জিডি করে ৩ জনের ছবি ৭টি ফোন নাম্বার দেওয়া হলেও ৩ মাসে আপনারা কোন ব্যক্তিকে সনাক্ত করতে পারেননি ।

এই দিকে অপহরণ কারীরা বৃহস্পতিবার রাতে মরিয়মকে অপহরণ করে তার বাবার ফোনে মরিয়ম খানম সেজে একটি এসএমএস পাঠায় যে ( আব্বু আমি বিয়ে করে ফেলেছি) এই কথা বলে ফোন সুইচ অফ করে দেয় । পরে শুক্রবার সকালে মরিয়ম খানমের ফোন থেকে তার ফেইসবুক আইডিতে গট ম্যারিড বলে একটা স্ট্যাটাস দেন এতে সবাই একটা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে যায়। শুক্রবার  বিকেলে সংবাদ টিভির পরিচালক শাহাজাদা বেলাল এর মেসেঞ্জার ও সংবাদ টিভির চেয়ারম্যান জুয়েল খন্দকারের মেসেঞ্জারে সাংবাদিক মরিয়ম খানমকে জিম্মি করে তাকে দিয়ে ভয়েজ দেওয়ায় স্যার কেমন আছেন আমি যেখানে আছি ভাল আছি এখন জায়গার নামটা বলা যাচ্ছেনা তবে আমার মা বাবাকে বলবেন আমার জন্যে দোয়া করতে। এতে মনে হয়েছিল যে মরিয়ম খানম হয়তো পালিয়ে বিয়ে করেছেন। কিন্তু শুক্রবার শেষে শনিবার সন্ধায় সাংবাদিক মরিয়ম খানম তার বাবার ফোনে ফোন দিয়ে বলেন আব্বু আমি বিয়ে করিনি আমাকে অপহরণ করা হয়েছে, এই বলতে পাশ থেকে কেহ মরিয়মের উপরে টর্চার শুরু করেন সেই সময়ে মরিয়ম চিল্লাচিল্লি করেন আর হতভাগা বাবা নিরবে মেয়ের চিৎকার শুনছিলেন । পরে ওসিকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানালে  তিনি বলেন দেখছি বিষয়টি, পরে মরিয়ম খানমের বাবা সংবাদ টিভির চেয়ারম্যানকে ফোন দিলে সংবাদ টিভির চেয়ারম্যান জুয়েল খান্দকার ওসিকে ফোন করেন। ওসি আবারো একেই অজুহাত  ঢাকা থেকে কল ট্যাগ এখনো আসেনি । চেয়ারম্যান ওসি জাকিরকে বলে কল ট্যাগ আজ ২ দিন হলো আসেনি সাংবাদিক হত্যার পরে আসবে নাকি। একথা বলায় ওসি আবারো চড়াও হয়ে নানান ভাষায় বলে কল কেটে দেয়। পরে উপর মহলে ফোন দেন সংবাদ টিভির চেয়ারম্যান ফোনের প্রেসারে রাতে ওসি বলছেন আমি লোকেশন ট্যাগ করেছি সে বাকলিয়া থানার একটি বাড়িতে জিম্মি আছেন। ওসির ফোন লোকেশন অনুযায়ী সেই বাড়িতে এএসআই মাহাবুবুর ও মরিয়ম খানমের বাবা সহ গিয়ে  সেই বাড়িতে মরিয়মের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। মরিয়মের বাবার অভিযোগ থানার ওসি আমার মেয়েকে উদ্ধারের নামে তালবাহনা করছে।

About songbadchannel

Check Also

মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখুন

  বিস্তারিত জানতে 01714802695

Leave a Reply

Your email address will not be published.